সপ্তাহের সাতকাহন - দে মা আমায় তবিলদারী

সপ্তাহের সাতকাহন:

 

নমস্কার,

এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে স্বাগত  

আমাদের বিশেষ অনুষ্ঠান – ভূমিকম্পরোধক নন্দি-ভৃঙ্গি শক্তিশালী টিএমটি বার নিবেদিত- দে মা আমায় তবিলদারী ।

খুব সোজা সাপ্টা বলি, জনপ্রিয়তার নিরিখে তিনি কোন অংশেই কম নন । তিনি সার্বজনীন এবং প্রাইভেটও বটে । ভক্ত যখনই ডাকেন তিনি সাড়া না দিয়ে পারেন না । তাই বছরের যেকোন সময়েই তিথি নক্ষত্র না মেনেই ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চট করে চলে আসেন । অন্যদের মতো তাঁর লাস্যময় গ্ল্যামার না  থাকলেও তিনি সাংঘাতিক ফেরোসিয়াস। কালো বা নীলরঙেই তিনি বেশ উজ্জ্বল ।দাপুটে, তবে কিছুটা ভক্ত ফ্রেন্ডলী । নিজের স্বামীকেও পর্যন্ত তিনি তোয়াক্কা করেন না।শুইয়ে  রেখেছেন একেবারে মাটিতে । ছেলে-বুড়ো রাজনৈতিক নেতা সক্কলেই তাকে ভীষণ ভয় পায়। তিনি মন্দিরেও থাকেন আবার শ্মশানেও বিরাজমান । এমন কোন বটগাছ নেই যেখানে তার দখল নেই । গ্রাসরুট লেভেলে তার একটা আলাদা ইমেজ আছে । আজীবন তাকে ডাকতে ডাকতে অনেকেই পাগল হয়েই গেছেন । হৈমন্তিক অমাবস্যায় তাঁর বাৎসরিক এরাইভ্যাল এখন সময়ের অপেক্ষা।আর ঠিক এই সময়েই আমরা তাঁদের পেয়ে গেছি আমাদের স্টুডিওতে । মায়ের সঙ্গে ঘন্টাখানেক, আর সঙ্গে আমি দেবাশিস । মাঝে মাঝে আমরা আপনাদের নিয়ে যাবো দক্ষিণেশ্বরে । সেখানে রয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ দাস,তারাপিঠে রয়েছেন বামাক্ষ্যাপা দত্ত, কালীঘাটে রয়েছেন সমতা চ্যাটার্জী ।

তাহলে শুরু করছি আমাদের বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান - দে মা আমায় তবিলদারী ।

সুধী পাঠক, আপনারা অবশ্য এনাদের চেনেন। তবে প্রথামাফিক একটা পরিচয়পর্ব  তো করিয়ে নিতে হয় । আমার ঠিক ডানপাশেই রয়েছেন দেবী চামুন্ডেশ্বরী আর বাঁ-পাশে রয়েছেন দেবী মাতা ত্রিপুরেশ্বরী ।

নমস্কার, এই অধমের প্রণাম নেবেন মা ।

চামুন্ডেশ্বরী ঃ বেঁচে থাকো বৎস  

 

সারা জীবন যারা ডেকেও আপনাদের সাড়া পান নি, আজ কিন্তু অনায়াসেই আমরা আপনাদের যেন জীবন্ত দেখা পেয়েছি মা কী সৌভাগ্যবান আমরা  

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ ভুল কথা। বিজ্ঞাপনদাতারা স্পনসর না করলে আমরা কিছুতেই এখানে আসতাম না । দেখাও দিতাম না । মুখোমুখি অনুষ্ঠানে বসতাম না ।

চামুন্ডেশ্বরী ঃ ঠিক বলেছিস তিপু । তবে আপনাদের টি আর পি রেট একটু বেশি বলেই আমরা এসেছি । আমাদেরও তো একটা প্রচারটচার দরকার ।  

 

মা, তোমরা তো নারী শক্তির প্রতীক তোমরা কীভাবে এই শক্তিকে ব্যাখ্যা করো?

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ শক্তি অবিনশ্বর । তাঁকে বিভাজন করা যায় না । রূপের পরিবর্তন ঘটে মাত্র । এই যে ত্রিপুরায় আমি ত্রিপুরেশ্বরী নামে আবার ঠনঠণিয়ায় আরেক রূপে ।আদ্যাপীঠে একরূপে আবার কালীঘাটে কিম্বা কঙ্কনীতলায় আরেক রূপে । অনেকটা জলের মতো ।

চামুন্ডেশ্বরী ঃ তোরা একটু বোস- আইনস্টাইন পড়ে নে । জানিস না E=mc2 ?

 

একটা বিষয়ে তোমাদের দুজনের কাছ থেকে একটু পরিস্কার হতে চাই মা । 

চামুন্ডেশ্বরী ঃ কী বল ?  

 

মাগো, আমাদের দেবদেবীদের মধ্যে তোমরা অধিকাংশই নারী তোমাদের দাপটে স্বর্গের দেবতারা পর্যন্ত ভয়ে ত্র্যস্ত কিন্তু মর্তে নারীরা আজ লাঞ্ছিতা তোমরা কী কিছুই করতে পারো না ?  

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ না আমাদের কিছুই করার নাই । আমরা আর তোদের দায়িত্ব নিতে পারবো না। আমরা নিজেরাও কী এখন কম লাঞ্ছনার শিকার?ভাগ্যিস ব্যাটা ধণ্যমানিক্য আমাকে একটা মন্দির বানিয়ে দিয়েছিল । তা না হলে আমাকেও ওই বটগাছের নিচে বে-আব্রু পোশাকে অসহায়ের মতো দিন কাটাতে হতো । আমার সতীর্থ কালিবোনদের কী অবস্থা জানিস ? রাতে-বিরাতে কুকুর বিড়াল ,মাতাল এসে  হি-সি করে দিয়ে যায় । কোথায় মুখ লুকোবো আমরা ?   

চামুন্ডেশ্বরী ঃ ঠিক বলেছিস । কারেক্ট । রাস্তার পাশে ড্রেনে, ডোবার উপর আমাদের বসিয়ে পুজোর নামে তোরা নেত্য করিস । মেয়ে-ছেলে-যুবা-বুড়ো নেত্য করতে করতে বেহুশ হয়ে ড্রেনে পড়ে যাস । বুঝেছিস আমরা কিছুই দেখি না ।

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ চামু, তুই একটা ভাইটাল পয়েন্ট মিস করে গেছিস । আমাদের ভাসাণের মিছিল । তোদের সাউন্ড সিস্টেমে  ভয়ে  আমরা চোখ বুজে থাকি । কী সব জলের বোতলে ঢকঢক করে কচিকচি মুখে গিলছিস । আমরা কিনতু সব দেখেও না দেখার ভান করি ।

চামুন্ডেশ্বরী ঃ আসলে তোদের ভক্তি নেই, শ্রদ্ধা নেই। শুধু আছে স্ফূর্তি। আমাদেরকে তোরা ইউজ করছিস । আমাদের নাম দিয়ে এক নতুন সংস্কৃতির আমদানি করছিস তোরা । গেট টুগেদারের এরেঞ্জ করচিস আমাদেরকে শিখন্ডি করে । 

 

মাগো, বিপদে পড়লে সবাই তোমাদের ডাকে । বলে – রক্ষা করো,উদ্ধার করো । তাহলে নারীদের উপর অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ, কন্যাভ্রূণ হত্যা ও নিপীড়ণ রোধে তোমাদের কী পরামর্শ এবার একটু বাতলে দাও না মা?  

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ চামু , তুই বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করে দে। উদয়পুর দেওয়ালি মেলা কমিটি থেকে আমার একটা ফোন এসেছে , একটু এটেন্ড করে নেই ।  

চামুন্ডেশ্বরী ঃ তোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এককথায় জটিল । তবে নারীদের আরো আরো সচেতন হতে হবে । তোরা কী সিমোন দ্য বোভোয়ারের “দি সেকেন্ড সেক্স” বা “দ্বিতীয় লিঙ্গ” বইটি পড়েছিস ? হুমায়ুন আজাদের “নারী” যদি পড়িস তবে নারীর প্রকৃত সংজ্ঞাটা বুঝতে পারবি । সে কেবল সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র নয়। মল্লিকা সেনগুপ্তের “স্ত্রীলিঙ্গ নির্মাণ” বইটিতে দেখবি কিভাবে ধর্ম, বিজ্ঞান, সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি ও বিজ্ঞাপন নারীদের ব্যবহার করছে ।নারীদের শিক্ষিত হতে হবে, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে ।  

ত্রিপুরেশ্বরী ঃ  নারী স্বাধীনতার প্রয়োজন, তবে স্বেচ্ছাচারিতা কখনই নয় । চামু, তুই তো অনেক রেফারেন্স দিয়েছিস ।তা এবিষয়ে বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয় ।আজ আমাদের  হাতে অবশ্য খুব একটা সময় নেই ।নিজের কথা বলব না,  আমি শুধু উলগা ব্রাউমাসের একটা কথাকে তোর সাথে যুক্ত করতে চাই চামু । “নারী পুরুষের সমঝোতাতেই গড়ে উঠে এক নতুন সমাজ । এই আগুনলাগা পৃথিবীতে নারীদেরই ভাষা খুঁজে নিতে হবে নয়তো মরতে হবে পুড়ে “।  

####

আপনারা দেখছেন ভূমিকম্পরোধক নন্দি-ভৃঙ্গি শক্তিশালী টিএমটি বার নিবেদিত - দে মা আমায় তবিলদারী । এই মূহুর্তে কালীঘাট থেকে আমার সঙ্গে সরাসরি টেলিফোন লাইনে রয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি – সমতা চ্যাটার্জী ।

হ্যাঁ, সমতা- তুমি কী শুনতে পারছো আমার কথা ।  তুমি তো কালীঘাটে রয়েছো। কালীঘাট এখন গোটা দেশের কাছেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ পীঠভূমি ও দ্রষ্টব্যস্থানও বটে  । তা সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি যদি আমাদের দর্শকদের কাছে একবার তুলে ধরো ।

সমতা ঃ দ্যাখো দেবাশিস, এই মূহুর্তে কালীঘাট বেশ জমজমাট । ফুলে ফলে পল্লবিত । বকুল ঝরে গেলেও আরো অন্য ফুল দিয়ে  সাজানো হচ্ছে গোটা কালীঘাট চত্বর । কিছুক্ষণ আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে কালিঘাটের সেবাইতের সঙ্গে । তিনি জানালেন-, মা কালী নাকি এখন আর আদি গঙ্গার পাশে আর থাকতে চান না । স্থান বদল করে খোদ দিল্লীতে পাড়ি দিতে চান। তবে শোনা গেছে কালীপুজোর পরেই  মা নাকি আবার নতুনরূপে পাকাপোক্তভাবে “দিল্লী চলোর” ডাক দেবেন ।

ধন্যবাদ সমতা ।আমরা আপাতত “দিল্লী চলোর” আহবানের অপেক্ষায় রইলাম । আবার ফিরে আসবো তোমার কাছে ।

সময় এখন একটা বিজ্ঞাপন বিরতির । কোথাও যাবেন না । ফিরে আসছি ।ফোন করে আপনার মতামত জানান এই নম্বরে – ৯৪৩৬১৩০৩১৪ ।